লেখক- শ্রী স্বপন কুমার রায়
মহা ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ ব্যাংক৷
সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী গীতাসংঘ, মতিঝিল শাখা, ঢাকা৷
--------------------------------------
এ অধ্যায়ে প্রিয় শিষ্য অর্জুনের প্রার্থনার প্রেক্ষিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে বিশ্বরূপ দর্শন করিয়েছিলেন বলে এঅধ্যায়কে বিশ্বরূপ দর্শনযোগ বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বরূপ হচ্ছে ভগবানের এমন এক রূপ বা মূরতী যার মধ্যে এ বিশ্বব্রহ্মান্ডের সকলকিছুই দৃশ্যত৷ বিভূতিযোগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখ থেকে অর্জুন তাঁর অনন্ত বিভূতির কথা শ্রবণ করেছিলেন। তখন স্বভাবতই তার মনে আকাঙ্খা জেগেছিল যে তিনি যা কানে শুনলেন তা যদি প্রত্যক্ষভাবে নয়নে দর্শন করতে পারতেন তবে আরও ভাল হতো। অর্জুনের মনের সেই বাসনার কথা তাই তিনি ব্যক্ত করলেন এ অধ্যায়ের প্রথমভাগে (চতুর্থশ্লোকে)। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে শ্রীকৃষ্ণ সমীপে বললেন, হেপ্রভু! যদি আপনি মনে করেন যে আমার দ্বারা আপনার সেরূপ দেখা সম্ভব, তাহলে হে যোগেশ্বর! আমাকে আপনার সেই অক্ষয় রূপ দর্শন করান। অর্জুনের এই আকুল প্রার্থনায় শ্রীকৃষ্ণ তখন তাঁর বিশ্বরূপ দর্শন দানের উদ্দেশ্যে অর্জুনকে দিব্যচক্ষু দান করলেন, কারণ সাধারণ চর্মচক্ষু দিয়ে ভগবানের দিব্যরূপ দর্শন করা যায় না। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় দিব্যচক্ষু প্রাপ্ত হয়ে অর্জুন দেখলেন যে, এ নিখিল সংসারে এক সূ্র্য নয়, বরং সহস্রসূর্যের তেজবিশিষ্ট এক বিরাট মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। সেই বিরাট মূর্তির মধ্যে তিনি স্বর্গ হতে মর্ত্য পর্যন্ত সমুদয় সৃষ্টি একসংগে দেখতে পেলেন। এই বিশ্বরূপ দর্শনের পূর্বপর্যন্ত অর্জুনের মনের মধ্যে ক্ষীণতম যে সন্দেহ ছিল তা এই রূপ দর্শনে বিদূরিত হলো। তার সর্বাঙ্গ রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল এবং তিনি অবনত মস্তকে সেই বিরাট মূর্তিকে প্রণাম করে করজোড়ে বলতে লাগলেন হে কেশব! হেপুরুষোত্তম! আমি তোমার দেহের মধ্যেই দেখতে পাচ্ছি দেববৃন্দ, যক্ষ, রক্ষ, ঋষি, মানব, পশুপক্ষী, সমস্তই বিদ্যমান। অর্জুন দেখতে পেলেন ভগবানের এক দেহের মধ্যেই অসংখ্য বাহু ও চরণ, উদর ও নেত্র। তাঁর বিরাট মুখগহ্বরের মধ্যে থেকে জলন্ত বহ্নিশিখার মত শত শত শিখা বহির্গত হচ্ছে। পৃথিবীর সকল নদ নদী যেমন সাগরের দিকে ধাবিত হয়, তেমনি কুরুক্ষেত্রের সকল বীর ও যোদ্ধা সেই জলন্ত শিখার দিকে ছুটে যাচ্ছে। পতঙ্গ যেমন মৃত্যুর জন্য অগ্নিতে ঝাপিয়ে পড়ে, তদ্রুপ তাঁর মুখের জলন্ত অগ্নিতে লোক সকল পতঙ্গের ন্যায় ঝাপিয়ে পড়ছে। তার উগ্র তেজে সমুদয় সৃষ্টি জ্বলে যাচ্ছে। এসব দেখে ভয়ে অর্জুনের সর্বাঙ্গ কম্পিত হতে লাগল। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, এই ভয়ঙ্কর মূর্তিতে আমি সৃষ্টি ধ্বংস করি, অর্থাৎ ইহা আমার লোকসমূহ বিনাশকারী মহাকালরূপ। এখন আমি লোকসমূহ ধ্বংস করতে প্রবৃত্ত হয়েছি। কাজেই তুমি যুদ্ধ না করলেও তোমার প্রতিপক্ষের যোদ্ধা গণের ধ্বংস অনিবার্য। অর্জুন, তুমি এখানে নিমিত্ত মাত্র কারণ হবে। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে হৃদয় দৌব্যল্য পরিত্যাগ করতঃ কর্তব্য সম্পাদনে ব্রতী হতে বললেন। ভগবানের কথায় অর্জুনের সকল ভ্রান্তির অপনোদন হলো। তিনি তখন ভাবলেন এতদিন যাকে শুধু বন্ধু ও মানব বলে জানতেন, আসলে তিনিই ভগবান, পরমব্রহ্ম সনাতন। তিনি কৃপাকরে তাদের সহায় হয়েছেন। এইবার অর্জুন শ্রীকৃষ্ণ সমীপে নতজানু হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলতে লাগলেন, হে দীনবন্ধু! হে প্রভু! বন্ধুজ্ঞানে, সখাজ্ঞানে ভ্রমবশতঃ তোমাকে কতইনা অন্যায় বাক্য প্রয়োগ করেছি। এখন আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আপনি আমার সকল অপরাধ ক্ষমা করুন। বন্ধু যেমন বন্ধুর অপরাধ ক্ষমা করে, পিতা যেমন পুত্রের অপরাধ ক্ষমা করেন, তদ্রুপ ভগবান যেন তার সকল অপরাধ মার্জনা করেন। অতপর অর্জুন ভগবানের এই উগ্রমূর্তির স্থলে তাঁর শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্মধারী মধুর মূরতি ধারণ করার জন্য প্রার্থনা জানালেন। ভগবান ও তার ইচ্ছানুসারে পুনঃরায় শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্মধারী মধুর সৌম্যমূরতি ধারণ করলেন৷ তখন অর্জুনের মনের সকল ভয়, সংশয়, দুশ্চিন্তা দূরীভূত হলো। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে তখন উপদেশ দিলেন যে, যারা তাঁকে ভালবেসে মনেপ্রাণে আত্মসমর্পণ করে, তিনি তাদেরকে এই মধুর রূপে দেখা দিয়ে থাকেন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।
অনুবাদ: হে পরমেশ্বর ! তোমার সম্বন্ধে যেরূপ বলেছ, যদিও আমার সম্মুখে তোমাকে সেই রূপেই দেখতে পাচ্ছি, তবুও হে পুরুষোত্তম ! তুমি যে ভাবে এই বিশ্বে প্রবেশ করেছ, আমি তোমার সেই ঐশ্বর্যময় রূপ দেখতে ইচ্ছা করি।
শ্লোক ৪
মন্যসে যদি তচ্ছক্যং ময়া দ্রষ্টুমিতি প্রভো ।
যোগেশ্বর ততো মে ত্বং দর্শয়াত্মানমব্যয়ম্ ॥৪॥
অনুবাদ: কিন্তু তুমি তোমার বর্তমান চক্ষুর দ্বারা আমাকে দর্শন করতে সক্ষম হবে না। তাই, আমি তোমাকে দিব্যচক্ষু প্রদান করছি৷ তুমি আমার অচিন্ত্য যোগৈশ্বর্য দর্শন কর !
অনুবাদ: অর্জুন সেই বিশ্বরূপে অনেক মুখ, অনেক নেত্র ও অনেক অদ্ভুত দর্শনীয় বস্তু দেখলেন৷ সেই রূপ অসংখ্য দিব্য অলঙ্কারে সজ্জিত ছিল এবং অনেক উদ্যত দিব্য অস্ত্র ধারণ করেছিল৷ সেই বিশ্বরূপ দিব্য মালা ও দিব্য বস্ত্রে ভূষিত ছিল এবং তাঁর শরীর দিব্য গন্ধ দ্বারা অনুলিপ্ত ছিল৷সবই ছিল অত্যন্ত আশ্চর্যজনক, জ্যোর্তিময়, অনন্ত ও সর্বব্যপী।
অনুবাদ: কিরীট শোভিত, গদা ও চক্রধারী, সর্বত্র দিপ্তীমান, তেজঃপুঞ্জ-স্বরূপ, দুর্নিরীক্ষ্য, প্রদীপ্ত অগ্নি ও সূর্যের মতো প্রভাবিশিষ্ট এবং অপ্রমেয় স্বরূপ তোমাকে আমি সর্বত্রই দেখছি।
শ্লোক ১৮
ত্বমক্ষরং পরমং বেদিতব্যং ত্বমস্য বিশ্বস্য পরং নিধানম্ ।
ত্বমব্যয়ঃ শাশ্বতধর্মগোপ্তা সনাতনস্ত্বং পুরুষো মতো মে ॥১৮॥
অনুবাদ: আমি দেখছি তোমার আদি, মধ্য ও অন্ত নেই৷ তুমি অনন্ত বীর্যশালী ও অসংখ্য বাহুবিশিষ্ট এবং চন্দ্র ও সূর্য তোমার চক্ষুদ্বয়৷ তোমার মুখমণ্ডলে প্রদীপ্ত অগ্নির জ্যোতি এবং তুমি স্বীয় তেজে সমস্ত জগৎ সন্তপ্ত করছ।
অনুবাদ: তুমি একাই স্বর্গ ও মর্ত্যের মধ্যবর্তী অন্তরীক্ষ ও দশদিক পরিব্যাপ্ত করে আছ। হে মহাত্মন্ ! তোমার এই অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর রূপ দর্শন করে ত্রিলোক অত্যন্ত ভীত হচ্ছে।
অনুবাদ: সমস্ত দেবতারা তোমার শরণাগত হয়ে তোমাতেই প্রবেশ করছেন। কেউ কেউ ভীত হয়ে করজোড়ে তোমার গুণগান করছেন৷ মহর্ষি ও সিদ্ধেরা 'জগতের কল্যাণ হোক' বলে প্রচুর স্তুতি বাক্যের দ্বারা তোমার স্তব করছেন।
অনুবাদ: হে মহাবাহু ! বহু মুখ, বহু চক্ষু, বহু বাহু , বহু উরু, বহু চরণ, বহু উদর ও অসংখ্য করাল দন্তবিশিষ্ট তোমার বিরাটরূপ দর্শন করে সমস্ত প্রাণী অত্যন্ত ব্যথিত হচ্ছে এবং আমিও অত্যন্ত ব্যথিত হচ্ছি।
অনুবাদ: হে বিষ্ণু ! তোমার আকাশস্পর্শী, তেজময়, বিবিধ বর্ণযুক্ত, বিস্তৃত মুখমণ্ডল ও উজ্জ্বল আয়্ত চক্ষুবিশিষ্ট তোমাকে দেখে আমার হৃদয় ব্যথিত হচ্ছে এবং আমি ধৈর্য ও শম অবলম্বন করতে পারছি না।
অনুবাদ: হে দেবেশ ! হে জগন্নিবাস ! ভয়ঙ্কর দন্তযুক্ত ও প্রলয়াগ্নি তুল্য তোমার মুখসকল দেখে আমার দিকভ্রম হচ্ছে এবং আমি শান্তি পাচ্ছি না৷ তুমি আমার প্রতি প্রসন্ন হও।
অনুবাদ: ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রেরা, তাদের মিত্র সমস্ত রাজন্যবর্গ এবং ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ এবং আমাদের পক্ষের সমস্ত সৈন্যেরা তোমার করাল দন্তবিশিষ্ট মুখের মধ্যে দ্রুতবেগে প্রবেশ করছে এবং সেই দন্তমধ্যে বিলগ্ন হয়ে তাদের মস্তক চূর্ণিত হচ্ছে। নদীসমূহ যেমন সমুদ্রাভিমুখে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে প্রবেশ করে, তেমনই নরলোকের বীরগণ তোমার জ্বলন্ত মুখবিবরে প্রবেশ করছে। পতঙ্গগণ যেমন দ্রুত গতিতে ধাবিত হয়ে মরণের জন্য জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করে, তেমনই এই লোকেরাও মৃত্যুর জন্য অতি বেগে তোমার মুখবিবরে প্রবেশ করছে। হে বিষ্ণু ! তুমি তোমার জ্বলন্ত মুখসমূহের দ্বারা সকল লোককে গ্রাস করছ এবং তোমার তেজোরাশির দ্বারা সমগ্র জগৎকে আবৃত করে সন্তপ্ত করছ।
অনুবাদ: শ্রীভগবান বললেন- আমি লোকক্ষয়কারী প্রবৃদ্ধ কাল এবং এই সমস্ত লোক সংহার করতে এক্ষণে প্রবৃত্ত হয়েছি৷ তোমরা (পাণ্ডবেরা) ছাড়া উভয় পক্ষীয় সমস্ত যোদ্ধারাই নিহ্ত হবে।
অনুবাদ: অতএব, তুমি যুদ্ধ করার জন্য উত্থিত হও, যশ লাভ কর এবং শত্রুদের পরাজিত করে সমৃদ্ধশালী রাজ্য ভোগ কর। আমার দ্বারা এরা পূর্বেই নিহত হয়েছে। হে সব্যসাচী ! তুমি নিমিত্ত মাত্র হও।
অনুবাদ: ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, জয়দ্রথ এবং অন্যান্য যুদ্ধ বীরগণ, পূর্বেই আমার দ্বারা নিহত হয়েছে। সুতরাং, তুমি তাদেরই বধ কর এবং বিচলিত হয়ো না৷ তুমি যুদ্ধে শত্রুদের নিশ্চয়ই জয় করবে, অতএব যুদ্ধ কর।
অনুবাদ: সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে বললেন- হে রাজন ! ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই বাণী শ্রবণ করে অর্জুন অত্যন্ত ভীত হয়ে কম্পিত কলেবরে কৃতাঞ্জলিপুটে প্রণাম করে গদ্ গদ বাক্যে শ্রীকৃষ্ণকে বললেন ৷
অনুবাদ: অর্জুন বললেন– হে হৃষীকেশ ! তোমার মহিমা কীর্তনে সমস্ত জগৎ প্রহৃষ্ট হয়ে তোমার প্রতি অনুরক্ত হচ্ছে। রাক্ষসেরা ভীত হয়ে নানা দিকে পলায়ন করছে এবং সিদ্ধরা তোমাকে নমস্কার করছে। এই সমস্তই যুক্তিযুক্ত।
অনুবাদ: তুমি আদি দেব, পুরাণ পুরুষ এবং এই বিশ্বের পরম আশ্রয়। তুমি সবকিছুর জ্ঞাতা, তুমিই জ্ঞেয় এবং তুমিই গুণাতীত পরম ধামস্বরূপ৷ হে অনন্তরূপ ! এই জগৎ তোমার দ্বারা পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে।
অনুবাদ: তোমার মহিমা না জেনে, সখা মনে করে তোমাকে আমি প্রগল্ ভভাবে “হে কৃষ্ণ”, “হে যাদব”, “হে সখা”, বলে সম্বধন করেছি। প্রমাদবশত অথবা প্রণয়বশত আমি যা কিছু করেছি তা তুমি দয়া করে ক্ষমা কর। বিহার, শয়ন, উপবেশন ও ভোজনের সময় কখন একাকী এবং কখন বন্ধুদের সমক্ষে আমি যে তোমাকে অসম্মান করেছি, হে অচ্যুত ! আমার সে সমস্ত অপরাধের জন্য তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
অনুবাদ: হে অমিত প্রভাব ! তুমি এই চরাচর জগতের পিতা, পুজ্য, গুরু ও গুরুশ্রেষ্ঠ। ত্রিভুবনে তোমার সমান আর কেউ নেই, অতএব তোমার থেকে শ্রেষ্ঠ অন্য কে হতে পারে?
অনুবাদ: তুমি সমস্ত জীবের পরম পূজ্য পরমেশ্বর ভগবান৷ তাই, আমি তোমাকে দণ্ডবৎ প্রনাম করে তোমার কৃপাভিক্ষা করছি। হে দেব ! পিতা যেমন পুত্রের, সখা যেমন সখার, প্রেমিক যেমন প্রিয়ার অপরাধ ক্ষমা করেন, তুমিও সেভাবেই আমার অপরাধ ক্ষমা করতে সমর্থ।
শ্লোক ৪৫
অদৃষ্টপূর্বং হৃষিতোহস্মি দৃষ্ট্বা ভয়েন চ প্রব্যথিতং মনো মে ।
তদেব মে দর্শয় দেব রূপং প্রসীদ দেবেশ জগন্নিবাস ॥৪৫॥
অনুবাদ: তোমার এই বিশ্বরূপ, যা পূর্বে কখনও দেখিনি, তা দর্শন করে আমি আনন্দিত হয়েছি, কিন্তু সেই সঙ্গে আমার মন ভয়ে ব্যথিত হয়েছে। তাই, হে দেবেশ ! হে জগন্নিবাস ! আমার প্রতি প্রসন্ন হও এবং পুনরায় তোমার সেই রূপই আমাকে দেখাও।
অনুবাদ: শ্রীভগবান বললেন- হে অর্জুন ! আমি প্রসন্ন হয়ে তোমাকে আমার অন্তরঙ্গা শক্তি দ্বারা জড় জগতের অন্তর্গত এই শ্রেষ্ঠ রূপ দেখালাম। তুমি ছাড়া পূর্বে আর কেউই এই অনন্ত, আদি ও তেজোময় রূপ দেখেনি।
অনুবাদ: হে কুরুশ্রেষ্ঠ ! বেদ অধ্যয়ন, যজ্ঞ, দান, পুণ্যকর্ম ও কঠোর তপস্যার দ্বারা এই জড় জগতে তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার এই বিশ্ব রূপ দর্শন করতে সমর্থ নয়।
শ্লোক ৪৯
মা তে ব্যথা মা চ বিমূঢ়ভাবো দৃষ্ট্বা রূপং ঘোরমীদৃঙ্ মমেদম্ ।
ব্যপেতভীঃ প্রীতমনাঃ পুনস্ত্বং তদেব মে রূপমিদং প্রপশ্য ॥৪৯॥
অনুবাদ: আমার এই প্রকার ভয়ঙ্কর বিশ্বরূপ দেখে তুমি ব্যথিত হয়ো না। সমস্ত ভয় থেকে মুক্ত হয়ে এবং প্রসন্ন চিত্তে তুমি পুনরায় আমার চতুর্ভুজ রূপ দর্শন কর।
অনুবাদ: সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে বললেন- মহাত্মা বাসুদেব অর্জুনকে এভাবেই বলে তাঁর চতুর্ভুজ রূপ দেখালেন এবং পুনরায় দ্বিভুজ সৌম্যমূর্তি ধারণ করে ভীত অর্জুনকে আশ্বস্ত করলেন।
অনুবাদ: হে অর্জুন ! যিনি আমার অকৈতব সেবা করেন, আমার প্রতি নিষ্ঠাপরায়ণ, আমার ভক্ত, জড় বিষয়ে আসক্তি রহিত এবং সমস্ত প্রাণীর প্রতি শত্রুভাব রহিত, তিনিই আমাকে লাভ করেন।
ওঁ তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'বিশ্বরূপদর্শনযোগো' নাম একাদশোঽধ্যায়্ঃ ॥১১॥