Last Updated (Saturday, 31 January 2009 00:51) Written by Radha Krishna Saturday, 31 January 2009 00:31

বি এন এ, কৃষ্ণনগর: ধমর্য়ী বিধির সীমানা ছাড়িয়ে পুজো তঁাদের কাছে মিলন উৎসব। দেবী প্রতিমা থেকে পুজোর আনুষঙ্গিক সবকিছুই তঁারা নিজেরা তৈরি করেছেন। এমনকী অব্রাহ্মণ ছাত্রীর মন্ত্রপাঠের মধ্যে দিয়েই সরস্বতী পুজোয় অভিনব নজির সৃিষ্ট করছে কৃষ্ণনগর বি এড কলেজ।
২০০৫ সালে স্থাপিত কৃষ্ণনগর বি এড কলেজের সরস্বতী পুজো এবার চতুর্থ বছরে পড়েছে। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে ফি বছর তঁাদের এই পুজো একটা অভিনবেত্বর স্বাক্ষর বহণ করে। এবছর পুজোর আমন্ত্রণপত্রেও রয়েছে শৈিল্পক ভাবনা। অবিকল পোস্টকার্ডের আদলে ছাপানো হয়েছে আমন্ত্রণপত্র। কাঠের কাঠামোর উপরে বাটিকের কাপড়ে দেবী। প্রতিমা তৈরি করেছেন ছাত্রছাত্রীরাই। কাচ, চুমকি ও জারদৌসি সেলাইয়ে প্রতিমার পরতে পরতে মুিন্সয়ানার ছাপ। প্রায় ১৫দিন ধরে সকাল সন্ধে এক করে তঁারা এই অভিনব দেবী প্রতিমা নির্মাণ করেছেন।
পুজো সম্পর্কে সনাতনপন্থী ধমর্য়ী ভাবনাকে দূরে সরিয়ে সরস্বতী পুজোয় এবার পুরোহিতের দায়িত্ব সামলাবেন লোপামুদ্রা সাহা নামে এক ছাত্রী। শুধু মন্ত্রপাঠই নয়, অঞ্জলির সময় সংস্কৃত মন্ত্রের বাংলা তর্জমা করেই তিনি এই পুজোয় পৌরহিত্য করবেন। সনাতনি প্রথা ভাঙার এই উদ্যোগ কেন? উত্তরে কলেজের টিচার ইনচার্জ সেন্তাষ মুখোপাধ্যায় বলেন, সরস্বতী পুজো আমাদের কাছে একটা মিলন উৎসব। তার জন্য তথাকথিত ব্রাহ্মণ পুরোহিত থাকতেই হবে এমন কোনও কথা নেই। আমাদের কোনও ছাত্রী যদি বিশুদ্ধ মন্ত্রপাঠ করে সেই পুজো করতে পারে তাতে ক্ষতি কী?
সরস্বতী পুজোকে অবলম্বন করে অচলায়তনের বন্ধ জানলা খোলার অন্যতম ঋিত্বক কলেজের কর্মশিক্ষা বিভাগের শিক্ষক বিশ্বরূপ হালদার। তঁার উদ্যোগেই ফি বছর ছাত্রছাত্রীরা সরস্বতী মিলন উৎসবে মেতে উঠেন। গোটা পুজোর থিম ভাবনা তঁারই মিস্তস্কপ্রসূত। তিনি বলেন, কলেজ চৌহিদ্দর মধ্যে সরস্বতী বন্দনা হলেও আধুনিক ভাবনার এই ফসল সমাজের প্রত্যেকটি স্তরে ছড়িয়ে পড়লেই আমাদের মিলন উৎসব প্রকৃত সার্থকতা লাভ করবে।
সৌজন্যে: দৈনিক বর্তমান, কলকাতা, শনিবার ৩১ জানুয়ারি ২০০৯, ১৭ মাঘ ১৪১৫
http://www.bartamanpatrika.com