Last Updated (Saturday, 31 January 2009 00:53) Written by Radha Krishna Friday, 30 January 2009 23:43

ভোরের কাগজ প্রতিবেদক : আজ শনিবার হিন্দু সমপ্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা। রাজধানীসহ সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী বাঙালির ঘরে ঘরে সার্বজনীন মণ্ডপ ও মন্দির এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদযাপিত হবে এ পূজা। এ কারণে আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি। সরকারি প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়েও প্রতিবারের মতো এবারো সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। সচিবালয়ের বাইরে মুক্তাঙ্গনে উদযাপিত হবে এ পূজা।
শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণীতে হিন্দু সমপ্রদায়সহ দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সরস্বতীকে বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বিদ্যা ও জ্ঞান মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দেয় এবং সত্য ও সুন্দরের অনুসন্ধানে আগ্রহী করে। হিন্দু সমপ্রদায় তাদের চিন্তা ও কর্মে সত্য ও সুন্দরের দেবী সরস্বতীর আদর্শের প্রতিফলন ঘটাবে বলে রাষ্ট্রপতি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সরস্বতীকে বিদ্যা, বাণী ও সুরের দেবী এবং সত্য ও সুন্দর কাজের প্রেরণাকর্ত্রী আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বিদ্যা মানুষকে আলোকিত করে। সুর ও বাণী করে সংস্কৃতিবান। হিন্দু সমপ্রদায়ের সকল নাগরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং দেশ ও জাতি গঠনে তাদের অবদান অব্যাহত রাখবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন ও সকলের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ এবং ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটিও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের সকল সমপ্রদায়ের মানুষকে।
ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথীতে দেবী সরস্বতীর বিশেষ আরাধনা (পূজা) করা হয়। তাই মাঘী শুক্লার পঞ্চমী তিথীকে শ্রীপঞ্চমীও বলা হয়ে থাকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই তিথীতে দেবী সরস্বতীর মর্ত্যে আবির্ভাব ঘটে বিদ্যাদাত্রী হিসেবে। সরস্বতীকে বাগদেবীও বলা হয়। এ কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মহাসমারোহে আয়োজন করা হয় এই পূজার। মূলত শিক্ষার্থীদের মাঝেই এ উৎসবের আমেজ বেশি দেখা যায়। মা সরস্বতীর কৃপা লাভের জন্য পূজার পরপরই দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে পুণ্যার্থীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে কেন্দ্রীয়ভাবে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হবে। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রায় অর্ধশতাধিক পূজার আয়োজন করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে। এই ছাত্রাবাসের বিভিন্ন বিভাগ এবং বিভিন্ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগেও পৃথক পৃথকভাবে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং জগন্নাথ হল সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে পূজার আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ও রোকেয়া হলেও আয়োজন করা হয়েছে সরস্বতী পূজার।
বাংলাদেশ সচিবালয় পূজা উদযাপন ও কল্যাণ পরিষদ এবারো পূজার আয়োজন করেছে। সচিবালয়ের পূর্ব পাশের মুক্তাঙ্গনে সকাল সাড়ে ৮টায় দেবীর আরাধনা (পূজা), ৯টায় পুষ্পাঞ্জলি প্রদান এবং ১০টায় প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কবি নজরুল কলেজ ও ঢাকা প্রেসিডেন্সী কলেজসহ রাজধানীর বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মহাসমারোহে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তবে পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার, তাঁতীবাজার ও স্বামীবাগসহ হিন্দু অধু্যষিত এলাকাগুলোয় সার্বজনীন মন্দির, মণ্ডপ এবং বিভিন্ন বাসায় প্রতি বছরের মতো এবারো ব্যাপক সংখ্যক পূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সৌজন্যে: http://www.bhorerkagoj.net/content/2009/01/31/news0230.php